ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজ ভর্তি-নির্দেশিকা
ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত সরকারি ৭টি কলেজ যথাক্রমে (১) ঢাকা কলেজ (২) কবি নজরুল সরকারি কলেজ (৩) ইডেন মহিলা কলেজ (৪) বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ (৫) সরকারি শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী কলেজ (৬) সরকারি বাঙলা কলেজ (৭) সরকারি তিতুমীর কলেজ-এর ব্যবসায় শিক্ষা শাখার বিভাগসমূহে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য দরখাস্ত আহ্বান করা হচ্ছে।
ইডেন মহিলা কলেজ এবং বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের আসনসমূহ শুধু ছাত্রী এবং ঢাকা কলেজের আসনসমূহ শুধু ছাত্রদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। এছাড়া সরকারি তিতুমীর কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী কলেজ এবং সরকারি বাঙলা কলেজে ছাত্র-ছাত্রী উভয়েই ভর্তি হতে পারবে। উপর্যুক্ত কলেজসমূহের ব্যবসায় শিক্ষা শাখার বিভাগসমূহে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ভর্তি কার্যক্রম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। অর্জিত ডিগ্রিসমূহের সনদপত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রদান করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য কোনো সুবিধা ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য নয় ।
ভর্তির যোগ্যতা ও প্রাথমিক আবেদনপত্র
১। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ব্যবসায় শিক্ষা/এ’ লেভেল/ বিজনেস ম্যানেজমেন্ট-এ উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবে ৷ ২। ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মাধ্যমিক বা সমতুল্য এবং ২০২২ সালের উচ্চ মাধ্যমিক বা তার সমতুল্য পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হয়েছে, শুধু তারাই আবেদন করতে পারবে।
৩। ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য ব্যবসায় শিক্ষায় উচ্চ মাধ্যমিক এবং বিজনেস ম্যানেজমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় যাদের প্রাপ্ত জিপিএ-এর যোগফল অন্তত ৬.৫০ আছে কেবল তারা ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে বিজনেস ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ থেকে আগত প্রার্থীদের একাউন্টিং বিষয়টি অবশ্যই থাকতে হবে এবং উক্ত বিষয়ে ন্যূনতম গ্রেড পয়েন্ট ৩.০ থাকতে হবে ।
81 IGCSE / O Level-এ অন্তত ৫টি বিষয়ে এবং IAL / GCE A Level-এ অন্তত ২টি বিষয়ে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। যাদের A Level -এ Business Studies / Accounting / Economics / Mathematics-এর মধ্যে যে কোনো একটি বিষয় ছিল, কেবল তারাই আবেদন করতে পারবে ।
৫। সমতা নিরূপণ:
O Level / A Level/ সমমান বিদেশি পাঠ্যক্রমে বা উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় হতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সমতা নিরূপণের জন্য https://collegeadmission.eis.du.ac.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘সমমান আবেদন’ বা ‘Equivalence Application’ মেনুতে আবেদন করে তাৎক্ষণিকভাবে অনলাইনে নির্ধারিত ফি জমা দিতে হবে। সমতা নিরূপণের পর প্রাপ্ত ‘Equivalence ID’ ব্যবহার করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতো তারাও একই ওয়েবসাইটে লগইন করে ভর্তি পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে পারবে। পরীক্ষায় প্রাপ্ত লেটার গ্রেডের পয়েন্ট হবে নিম্নরূপ: A=5.0, B= 4.0, C = 3.50, D=3.
৬। আবেদন ফি পরিশোধ করার পদ্ধতি: ০২/০৪/২০২৩ তারিখ হতে ৩০/০৪/২০২৩ তারিখ রাত ১১:৫৯-এর মধ্যে ওয়েবসাইট https://collegeadmission.eis.du.ac.bd-এ অনলাইনে আবেদন করতে হবে। ভর্তির আবেদনের জন্য শিক্ষার্থীর উচ্চ মাধ্যমিক এবং মাধ্যমিকের তথ্য, বর্তমান ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ও কোটা সংক্রান্ত তথ্য (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) এবং ওয়েবসাইটে উল্লিখিত সাইজের একটি ছবি প্রয়োজন হবে। আবেদনকারীকে দেশের ৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত্ব বাণিজ্যিক ব্যাংকের (সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী) যে কোনো শাখায় নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অথবা যে কোনো ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (যেমন: নগদ/বিকাশ/রকেট ইত্যাদি) মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষার ফি ৬০০.০০ (ছয়শত) টাকা জমা দিতে হবে। আবেদন ও ফি জমার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য https://collegeadmission.eis.du.ac.bd-এ ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অধিভুক্ত ৭ (সাত) কলেজসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক/ কর্মকর্তা/ কর্মচারীদের ওয়ার্ডকোটা (কেবল ছেলে/ মেয়ে/ স্বামী/ স্ত্রী), উপজাতি/ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি, হরিজন ও দলিত সম্প্রদায়, প্রতিবন্ধী (দৃষ্টি, বাক, শ্রবণ, শারীরিক ও নিউরো- ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডারস) ও মুক্তিযোদ্ধা (সন্তান/ নাতি/নাতনী) কোটার মধ্যে প্রার্থী যে কোটায় ভর্তি হতে ইচ্ছুক অনলাইনে ভর্তি ফরম পূরণের সময়ে সেই কোটায় অবশ্যই টিক চিহ্ন দিতে হবে।
৮। ভর্তি পরীক্ষা ২৪ জুন ২০২৩ তারিখ (রোজ শনিবার) সকাল ১১:০০ টায় অনুষ্ঠিত হবে।
৯ । ভর্তি পরীক্ষায় প্রার্থীদের পরীক্ষার স্থান website https://collegeadmission.eis.du.ac.bd এর মাধ্যমে জানানো হবে। ১০। পরীক্ষা Multiple Choice Question (MCQ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। উত্তরদান পদ্ধতি প্রশ্নপত্রের নির্দেশাবলি অংশে বর্ণিত থাকবে। ভর্তি পরীক্ষায় কোনো প্রকার Calculator, মোবাইল ফোন বা তদ্রূপ কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ।
১১ । ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর/গ্রেড-এর ভিত্তিতে মেধাস্কোর নির্ধারিত হবে। ১২। মোট ১২০ নম্বরের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মেধা তালিকা তৈরি করা হবে। এজন্য শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) প্রাপ্ত
জিপিএ ১০ নম্বরে এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) প্রাপ্ত জিপিএ ১০ নম্বরে রূপান্তর করে এই দুইয়ের যোগফল ১০০ নম্বরের
ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের সাথে যোগ করে মোট ১২০ নম্বরের উপর শিক্ষার্থীদের মেধা তালিকা তৈরি করা হবে।
১৩। ভর্তি পরীক্ষায় মোট ১০০টি প্রশ্নে ১০০ নম্বর থাকবে এবং পরীক্ষার জন্য ১ (এক) ঘণ্টা সময় নির্ধারিত থাকবে।
১৪। পরীক্ষার উদ্দেশ্য হবে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে অর্জিত জ্ঞান যাচাই করা। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠ্যক্রমের ভিত্তিতে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হবে।
মেধাতালিকা প্রকাশ ও করণীয়
১৫। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ নম্বর এবং ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুযায়ী আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম কোর্সে মোট ৪৮৯২ জন (মেধায় ৪,৫০২ জন ও কোটায় ৩৯০ জন) প্রার্থীকে ভর্তির জন্য বিবেচনা করা হবে। পরীক্ষায় পাসের জন্য ১০০ নম্বরের মধ্যে ন্যূনতম ৪০ নম্বর পেতে হবে। ভর্তির উপযুক্ত শর্ত কোটাসহ সকল পরীক্ষার্থীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে।
১৬। ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীরা নিম্নলিখিত বিভাগগুলোতে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে এবং যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে নির্দিষ্ট সংখ্যক আসনে ভর্তি হতে পারবে ।
ক) ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটভুক্ত বিষয়:
১. ব্যবস্থাপনা
২. হিসাববিজ্ঞান
৩. মার্কেটিং
৪. ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং
খ) কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটভুক্ত বিষয়:
১. বাংলা
২. ইংরেজী
ইতিহাস
৪. দর্শন ৫. ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ৬. ইসলামিক স্টাডিজ
৭. অর্থনীতি
৮. রাষ্ট্রবিজ্ঞান
৯. সমাজবিজ্ঞান
১০.সমাজকর্ম
১১.আরবি
গ) বিজ্ঞান ইউনিটভুক্ত বিষয়:
১. ভূগোল ও পরিবেশ
২. মনোবিজ্ঞান
৩. পরিসংখ্যান
৪. গার্হস্থ অর্থনীতি
১৭। ভর্তি সংক্রান্ত নিয়ম-নীতির যে কোনো ধারা ও উপধারা পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংশোধন ও সংযোজনের অধিকার কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য
ভর্তির জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীকে ফরমের সংগে মার্কসিট/সার্টিফিকেটের সত্যায়িত ফটোকপি ছাড়াও অন্যান্য যে সব কাগজ জমা দিতে হবে সেগুলো হচ্ছে:
(১) প্রার্থী সর্বশেষ যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে উত্তীর্ণ হয়েছে সে প্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক প্রদত্ত প্রশংসাপত্র ৷
(২) উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রবেশপত্রের ফটোকপি ।
(৩) মাধ্যমিক শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন কার্ডের ফটোকপি এবং ৫ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
(৪) অনলাইন ভর্তি ফরম পূরণের সময় কোটা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য দিতে হবে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে কোনো নতুন অন্তর্ভুক্তি গ্রহণ করা হবে না।